মিষ্টির দোকানের ময়রার তৈরি দারুন মজার টক মিষ্টি দই ! দোকানের মিষ্টি দই বানানোর রেসিপি
দুধ, চিনি ও ভালো মানের মিষ্টি দই বীজ দিয়ে ময়রার স্টাইলে ঘন ও মিষ্টি দই বানানোর পদ্ধতি। রাতভর বসিয়ে রেখে সকালে ফ্রিজে ঠান্ডা করা হয়। পুষ্টি সম্পর্কিত: প্রতি ১০০ মিষ্টি দই এর মধ্যে রয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ ক্যালরি।
শেয়ার করুন:
উপকরণ
- •আমি এখানে ১ লিটার দই বানানোর মেজারমেণ্ট দিলাম:
- •দুধ - ২ লিটার
- •চিনি - ২০০ গ্রাম
- •মিষ্টি দই বীজ - ৫০ গ্রাম
রান্নার ধাপ
- 1প্রথমে এখানে চুলায় একটা প্যানের মধ্যে চার লিটার দুধ নিয়ে নিলাম। এবং উপকরনে আমি এক লিটার দই বানানোর জন্য দিয়ে দিলাম। এই চার লিটার দুধ জ্বাল করে অর্ধেক করে নিতে হবে। অর্থাৎ আমি এখানে একটা স্কেল নিয়ে এর মধ্যে দিয়ে দেখে নিলাম,যে দুধের পরিমানটা এখানে চার ইঞ্চি রয়েছে। অর্থাৎ জ্বাল করে এটা দুই ইঞ্চি করে নিতে হবে। এভাবে আমি মেপে নেই আমার সুবিধা মতো। আর এখন ফুটে আসা এই দুধের মধ্যে চারশত গ্রাম চিনি দিয়ে দিব। চিনিটা আগে দিলে,ধীরে ধীরে সুন্দর লাল রঙ হবে। আর মিষ্টি দই এর জন্য অবশ্যই এখানে মিষ্টি দই বিজ ব্যবহার করতে হবে। সেক্ষেত্রে আমি বাজার থেকে প্লাস্টিকের কাপে কিনতে পাওয়া, একটা মিষ্টি দই নিলাম। আর অবশ্যই দই টা ভালো হতে হবে। কোনো প্রকার ফাটা না। মানে দই বিজ যত ভালো হবে আপনার দইটাও ভালো করে জমবে। এখন দুধ টা জ্বাল করে দুই লিটার করে নিতে হবে। দুধে সর পরলে কোনো সমস্যা নেই এই সর থাকলে দই খেতে আরও মজার হয়।
- 2তবে সাইডে লেগে গেলে এই গুলোও চেছে দুধের সাথে মিশিয়ে দিব। একটু পর পর নেড়ে দিব। ফুটে আসার পর চুলার জ্বাল টা কম আচে করে দিব। এই পর্যায়ে দুধটা কমে অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। এখন দুধটা ঠান্ডা করে নিতে হবে। অর্থাৎ কুসুম গরম থাকবে যেমনটা হাত ডুবিয়ে রাখা যায়। এই পর্যায়ে ঠান্ডা হয়ে আসলে এখন এখানে একটা পাত্র নিয়ে নিলাম। এর মধ্যে দই বিজ টা দিয়ে এবং তৈরি করা ঘন দুধ একটু দিয়ে ভালো করে প্রথমে ফেটে নিব। তারপর কুসুম গরম এই দুধের মধ্যে এই দই বিজ এর মিশ্রণ টা ঢেলে দিব। ভালাও করে মিশিয়ে নিলাম। এবং এখানে একটা প্লাস্টিকের দই এর এক লিটার বাটিতে ঢেলে দিলাম। এবং আরেকটা মাটিড় হাড়িতে ঢেলে ফিলাম। এখন চুলায় এক পাশে একটা প্যান এবং অন্য পাশে পাতিলে বালি দিয়ে একটু গরম করে রেখেছিলাম। অর্থাৎ পানির ছিটা দিলেই ছ্যাত করে একটা শব্দ হয়। এখন এই হালকা গরম করা প্যানের মধ্যে এবং পাতিলে থাকা বালির উপরে একটা করে স্টিলে এর স্ট্যান বসিয়ে দিলাম।
- 3প্যান এর উপরে দই এর হাড়ি এবং পাতিলের ভিতরে প্লাস্টিকের বাটিটা বসিয়ে দিলাম। এখন প্যানের ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিব। এবং পাতিলেও ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিব। যেহেতু খুলাতে একটু গরম ভাব টা কমে গেলো,তাই চুলার জ্বাল টা আবার হাই হিটে করে ১০-১৫ সেকেন্ড এর জন্য তারপর বন্ধ করে দিব। দুটো চুলাই একই ভাবে। এবং উপরে একটা মোটা কম্বল দিয়ে ঢেকে দিব। এভাবে সারা রাতের জন্য রেখে দিব। পরের সকাল সাতটায় বের করে নিলাম। তারপর নরমাল ফ্রিজেও রেখে একটু ঠান্ডা করে নিব। দুই তিন ঘন্টার জন্য। একদম জমে গেছে আর ভিতরে এবং উপরে দুধের শরে ভরপুর। এভাবে হয়ে গেলো দোকানের ময়রার রেসিপিতে টক মিষ্টি দই তৈরির রেসিপি। প্রস্তুত সময়: দুই ঘন্টা। নির্দেশনা: যে কোনও ভালো দই ই "দই বীজ" ! ভালো মিষ্টি দই এর এক বা দুই টেবিল চামুচ নিয়ে মিষ্টি দই বানানোর বীজ হিসাবে ব্যাবহার করতে পারেন আর একইভাবে ভালো টক দই নিয়ে, টক দই এর বীজ হিসাবে ব্যাবহার করতে পারেন। দই বীজ স্পেশাল কিছু না ।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
মিষ্টি দই বানাতে কী কী উপকরণ লাগে?+
এক লিটার দই বানানোর জন্য দুই লিটার দুধ, ২০০ গ্রাম চিনি এবং ৫০ গ্রাম মিষ্টি দই বীজ লাগে।
দই বীজ হিসেবে কোন দই ব্যবহার করা উচিত?+
ভালো মানের মিষ্টি দই বীজ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, কারণ দই ভালো হলে তৈরি দইও ভালোভাবে জমে।
দই জমানোর জন্য কীভাবে রাখতে হয়?+
হালকা গরম প্যানের উপর দই-এর পাত্র বসিয়ে ঢেকে সারা রাত একটি মোটা কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। পরের দিন সকালে বের করে ফ্রিজে দুই-তিন ঘণ্টা ঠান্ডা করতে হয়।